আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।
ও’মা, ফাগুনে তোর আমের বনে, ঘ্রাণে পাগল করে
মরি হায়, হায় রে-
ও’মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে, আমি কী দেখেছি মধুর হাসি।।
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো,
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো-
মা তোর বদন খানি মলিন হলে আমি নয়ন
ও’মা আমি নয়ন জলে ভাসি
তোমার এই খেলাঘরে শিশুকাল কাটিল রে,
তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি।
তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে,
তখন খেলাধুলা সকল ফেলে, ও’মা তোমার কোলে ছুটে আসি।
ধেনু-চরা তোমার মাঠ, পারে যাবার খেয়াঘাটে,
সারাদিন পাখি-ডাকা ছায়ায়-ঢাকা তোমার পল্লীবাটে,
তোমার ধানে ভরা আঙিনাতে জীবনের দিন কাটে,
ও’মা, আমার যে ভাই তারা সবাই, ওমা, তোমার রাখাল তোমার চাষি।
ও’মা, তোর চরণেতে ছিলেম এই মাথা পেতে-
দে গো তোর পায়ের ধুলা, সে যে আমার মাথার মানিক হবে।
ও’মা, গরিবের ধন যা আছে তাই দিব চরণতলে,
আমি পরের ঘরে কিনব না আর, মা, তোর ভূষণ বলে গলার ফাঁসি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর









